আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় – প্রকৃতির শব্দ।যা “যুগ যুগব্যাপী নাচ” খন্ডের অন্তর্ভুক্ত।
প্রকৃতির শব্দ

সময়ের মাত্রা এবং সুর মূর্ছনা নাচের প্রথম শব্দ সহযোগী না। অনুকরণ এবং অনৈচ্ছিক বা স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের প্রকাশ সমস্ত সচেতন শব্দ গঠনের অগ্রবর্তী হয়। জীবজন্তুর নাচ, যাতে জীবন্ত জন্তুর মত অনুকৃতি করাই প্রধান উদ্দেশ্য, তাতে জীবজন্তুর অঙ্গভঙ্গির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকে- সম্পূর্ণ ব্যাপারটা অবশ্যই প্রকৃত জীবজন্তুর শব্দ সহযোগ করা হয়।
প্রত্যেক আদিম শিকারী আল্লাহ্ প্রদত্ত হুবহু অনুকরণের ভীষণ ক্ষমতা রাখে, ক্রদ্ধ কুকুরের গোঁ গোঁ, শুকরের ঘেঁৎ ঘেঁৎ, নেকড়ে বাঘের মত দীর্ঘক্ষণ ধরে চিৎকার, শিস্ দেয়া, বন্য জন্তুর মত তীব্র চিৎকার এবং তাদের কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ শব্দ করে ।
সত্যি বলতে কি অনুকরণাত্মক নাচে সে তাকে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছায় এইরূপ শুধু করে না কিন্তু অনুভূতির সঙ্গে যে জন্তুর নাচ সে করে তার সঙ্গে একাত্মতার তাগিদে করে। সঠিক জীবজন্তুর নাচে অন্য আর কোন মিউজিকের প্রয়োজন নাই ।
কিন্তু কল্পনাহীন নাচ প্রয়োজনীয় ভাবে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃতির শব্দ সহযোগে হয়। হর্ষোল্লাস শব্দ ব্যাপকার্থে অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গের চেয়ে কণ্ঠকে প্রাধান্য দেয়। অর্ন্তমুখী নাচ ঐ সকল দুর্বল “হ”-কার ধ্বনি প্রয়োগ করে এবং অন্ধকার ঘনায়ে আনার হামিং বা গুনগুন শব্দ এবং কিছু উচ্চসুরের সঙ্গে থাকে আধিভৌতিক বা রহস্যজনক ক্ষমতা, মনে হয় প্রাত্যহিত জীবন থেকে সরায়ে দূরে কোথাও নিয়ে যায়।
বৌদ্ধ পূজারী তাদের “ওঁম” শব্দে পার্থিব জগৎ ভুলে যায় এবং সামোয়ান বসা নাচুয়ে তার “এম এম” শব্দে। দরবেশ “আঃ” শব্দ তৈরী করে, প্রাচীন সাইবল পুরোহিত এবং বালির (দ্বীপ) আকর্ষণীয় ঘুমন্ত নাচুয়ে “হোও”, উত্তর-পশ্চিম ব্রাজিলের ইন্ডিয়ানগণ “পোও” শব্দ উচ্চারণ করে। সম্ভবতঃ ক্যালিফোর্ণিয়ার মাইডুদের হাম নাচও এই ক্যাটাগরীতে পড়তে পারে ।

পক্ষান্তরে বন্যলাফ-নাচে হর্ষোল্লাস খুবই শক্তিশালী চিৎকারে প্রকাশ করা হয় : অস্ট্রিয়ান নাচুয়ে তা বিদ্রুপবাক্য হিঃ ইও ইও ড্রানজ প্রাইমাতে এবং ব্যাভারিয়ান স্কুপ্লাটর এর মধ্যে বেহালা, জীতার ও একোর্ডিয়ানের প্রচলিত মিউজিকের মধ্যে ঠিকই মানুষ তার প্রচুর উদ্দীপনার অনুভুতি প্রকাশের জন্য বন্য আর্তনাদ করে।
