নৃত্যশিল্পী সিতারা

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ নৃত্যশিল্পী সিতারা

 

নৃত্যশিল্পী সিতারা

 

নৃত্যশিল্পী সিতারা

“আসলে কথক কেবল তোড়া আর টুকড়া দ্বারাই পূর্ণে’ নয়। কথক হ’ল কথা- নৃত্য। পৌরাণিক কথাকে (কাহিনী) নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে উপস্থাপককে বলা হত কথক। তাই ‘কথক’ মানে কথা প্রস্তুতকারী’। মোগল যুগে কথকের কথার ওপর কম লক্ষ্য রেখে তোড়া-টুকড়ার ওপর বেশি জোর দেওয়া আরম্ভ হয় ।

কথক কর্তৃক অভিনয়-এর স্থান, সে কালে অধিকার করল গজল । এইভাবে ভজন পরিবর্তিত হ’ল গজলে । এটা ওয়াজিদঅলী শাহের সময়কার কথা। তিনি নিজেও নৃত্য-সংগীতের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তাঁর গল্প ঠাকুর- প্রসাদকে ‘মহারাজ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সেই অনুযায়ী তার মাতকেই ‘মহারাজ’ বলার পরপরা চলে আসছে। জনৈক সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে কথাগুলি বলেছিলেন নৃত্যসাম্রাজ্ঞী শ্রীমতী সিতারা।

 

নৃত্যশিল্পী সিতারা

 

শ্রীমতী সিতারার জন্ম হয়েছিল কলকাতার ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে। পিতা বেনারস ঘরানার খ্যাতিমান নতোকলাবিদ, শকেদের মিশ্র। পাঁচ বছর বয়স থেকেই স্থানীয় এক গণেশ-মন্দিরে নতো প্রদশ’ন আরম্ভ করেন । ১০-১১ বছর বয়সেই রীতিমত পেশাদার নৃত্যাঙ্গনা হয়ে ওঠেন ।

প্রথম নৃত্যশিক্ষা করেন পিতার নিকট। প্রায় ১২/১৩ বছর বয়সে তিনি শম্ভু মহারাজের সান্নিধ্যে আসেন ।

কথক ছাড়া মণিপুরী, ভরতনাট্যম, লোকনতো, পাশ্চাত্ত্য নৃত্যোদিতেও তিনি কুশলী ।

 

নৃত্যশিল্পী সিতারা

 

সিতারা অনেকদিন চলচ্চিত্রাভিনেত্রী রূপে কাজ করেন এবং সেখানেও তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন। পরে আবার তাঁর মূল বিষয় নতো ফিরে আসেন। চিত্রপরিচালক শ্রীজাসিফের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বেশ কিছুকাল পূর্বে তিনি নিজে একটি দল গঠন করে বহি ভারতে নিত্য প্রদর্শন করে প্রচুর যশ, খ্যাতি ও অর্থ লাভ করেন। একবার অভিমান করে বলেছিলেন, “রাশিয়া ছাড়া সব দেশেই তিনি নিজের খরচে ভ্রমণ করেছেন। রাশিয়ায় তিনি গিয়েছিলেন রাজ্য সরকারের পক্ষে। মহারাে তখন মারাঠী নর্তকী পাওয়া যায়নি বলেই তাঁকে পাঠান হয়েছিল। এটা একটা ব্যতিকুর বলা যেতে পারে। কারণ, এসব ব্যাপারে বোম্বাই থেকে মহারাষ্ট্রীয় কলাকারকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। জাতিভেদ প্রথাকে যে দেশে অপরাধ মনে করা হয়, সেই দেশেরই রাজ্য সরকারের কাছ থেকে। এইরূপ ভেদাভেদ কতখানি বেদনাদায়ক !”

 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ সিতারার নৃত্যে মুগ্ধ হয়ে ‘নৃত্যসম্রাজ্ঞী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

প্রতিভাময়ী সিতারা সেদিনও, ১৯৬১ খৃস্টাব্দের ১৩ই মে, পয়ষট্টি বছর বয়সে বোম্বাইয়ের বিড়লা সভাগৃহে সকাল ১১টা থেকে রাত ১.৪৫ মিনিট পর্যন্ত (পৌনে বারো ঘণ্টা) অবিরাম কথক নৃত্য প্রদর্শন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

সিতারা সত্যই সংগীত জগতের অত্যুজ্বল ‘সিতারা’।

Leave a Comment