নৃত্যশিল্পী রুক্মিণী দেবী অরণ্ডেল

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ নৃত্যশিল্পী রুক্মিণী দেবী অরণ্ডেল

 

নৃত্যশিল্পী রুক্মিণী দেবী অরণ্ডেল

 

নৃত্যশিল্পী রুক্মিণী দেবী অরণ্ডেল

ভরতনাট্যমের একটি উজ্জ্বলতম তারকা শ্রীমতী রক্মিণী দেবী অরুণ্ডেল। ঊনিশ শ’ চার খৃষ্টাব্দে মাদরায় এর জন্ম। জনক-জননীর ইনি সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। পিতা নীলকান্ত শাস্ত্রী ছিলেন সংস্কৃতের একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত। শৈশবকাল থেকেই নতোগীতে তাঁর প্রগাঢ় অনুরাগ ।

১৯২০ খৃষ্টাব্দে দাম্পত্য জীবনের সূচনা হয়। স্বামী ডক্টর জজ এস. অরন্ডেলও ছিলেন এক কৃতবিদ্য পরষে। ইংল্যান্ডের মাটিতে জন্ম হলেও, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অসামান্য দান ছিল। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ১২ই আগষ্ট সাতষট্টি বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন। সেই সময় শ্রীমতী অম, স্বামীনাথন বলেছিলেন: We must all remember thae Dr. Arundale, a foreigner, came to India and worked for the freedom of India.

 

নৃত্যশিল্পী রুক্মিণী দেবী অরণ্ডেল

 

স্যার তেজবাহাদুর সঙ্গ বলেছিলেন : Indians conld never forget the service of Dr. Arundale.

১৯০২ খৃ. লডনের কুইন্স হলে শ্রীমতী অ্যানী বেসান্ত-এর ( Annie Besant ) ব্রহ্মবিদ্যা (theosphy ) ও সাম্রাজ্যবাদ সম্বন্ধীয় বক্তৃতা শানে ড. অরণন্ডেলের জীবনে বিরাট পরিবর্তন ঘটে। অতঃপর শেষ জীবন পর্যন্ত তিনি ঐ আদর্শে’ই আত্মোৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্যার তেজবাহাদুর সপ্র, সরোজিনী নাইডু, শ্রীমতী অম, স্বামীনাথম, প্রমুখ ব্যক্তিদের প্রতিবেদন থেকেই ব্রহ্মজ্ঞানী ড. অর ডেলের ব্যক্তিত্ব, মধর স্বভাব, ভারতপ্রীতি প্রভৃতি নানা সদগুণের পরিচয় পাওয়া যায়। এহেন স্বামীর সান্নিধ্যে রক্ষিণী দেবী জীবনের সব দিক দিয়েই লাভান্বিত হন। স্বামীর বিশেষ যত্ন ও আগ্রহ তথা প্রেরণা পেলে শ্রীমতী রক্মিণীর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবার সুযোগ পেত কি না সন্দেহ।

১৯২৬ খৃষ্টাব্দে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত রুশীয় নত—কী শ্রীমতী পাভলোডার সঙ্গে বুকিনী দেবীর প্রথম পরিচয় ঘটে। তিনি পাভলোভার কাছে তাশিক্ষা শুরু করেন। পরে (১৯৩৫ খৃ.) মাদ্রাজের প্রখ্যাত নৃত্যের, মীনাক্ষী সুরম, পিল্লাইয়ের কাছে ভরতনাট্যমের পাঠ নেন ।

 

নৃত্যশিল্পী রুক্মিণী দেবী অরণ্ডেল

 

১৯০৬ খৃস্টাব্দে তিনি মাদ্রাজের সন্নিকটবর্তী অডিয়ায়-এ ( Adyar )

“কলাক্ষেত্র” নামে একটি আন্তর্জাতিক কলাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দেশ্য : ভগবতমেলা নাটক, কুর, ভঞ্জি, কুচিপ ড়ি, যক্ষগান প্রভৃতি দক্ষিণ ভারতের বিস্মৃতপ্রায় নৃত্যধারার পুনের জীবন ।

১৯৪০ খৃষ্টাব্দে তির পতিতে (মাদ্রাজ) অননুষ্ঠিত দশম ওরি এস্টাল কনফারেন্সে শ্রীমতী অরণ্ডেল ভরতনাট্যম বিভাগের সভানেত্রীর পদ অলংকৃত করেন। কিছুকাল তিনি রাজ্য পরিষদের সদস্যও ছিলেন।

 

১৯৫৩ খৃষ্টাব্দে তিনি নৃত্যপ্রদর্শনের জন্য আমেরিকায় যান। সেখানে যেমন অজস্র খ্যাতি অর্জন করেন, তেমনি ‘কলাক্ষেত্র’-এর জন্য প্রচুর অর্থ ও সংগ্রহ করেন।

ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতির প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর নৃত্যকলায় । তাঁর নৃত্যকস্তু প্রধানত ভারতীয় পৌরানিক কাহিনী ও ধর্মশাস্ত্রের পটভূমিতে রচিত। ভারতীয় নৃত্যকলার গবেষণা, প্রচার ও প্রসার কল্পে তাঁর যে অবদান, ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফেব্রয়ারী মাসে তিনি জন্মেছিলেন, ২৪-২-১৯৮৬ তারিখে তাঁর জীবনাবসান হয়।

Leave a Comment